বাংলা দেখা না গেলে

রেজি নং-ডিএ-৯১১, ঢাকা ৩০ মার্চ ২০২০, সোমবার। অনলাইন সংখ্যা: ১৭১০

ধুনটে যমুনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

ধুনটে যমুনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

১৪ মার্চ ২০২০, ১০:০২, শনিবার ।

পথযাত্রা রিপোর্ট ।।

বগুড়ার ধুনট উপজেলার পুকুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালীরা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বাঁধটি।


বর্ষা মৌসুমে নদীর তীর ও বাঁধ ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভুতবাড়ি-পুকুরিয়া গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে পাউবো ২০১৭ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২০০ মিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা ১০ দিন ধরে পুকুরিয়া গ্রাম সংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। আর ওই বালু পাইপের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া বাজারে ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতি ট্রাক বালু মানভেদে ৮০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এছাড়া ধুনট ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী দুটি স্থানে পাশাপাশি তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধসহ নদী ভাঙনের কবলে পড়তে পারে।

এলাকার বাসিন্দা আবদুস সোবাহান, আবুল হোসেন, এমরান হোসেন জানান, ধুনট উপজেলার শেষ সীমানা পুকুরিয়া গ্রামে ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শেষ সীমানা ঢেকুরিয়া গ্রামে মিঠু মিয়া, রেজাউল করিম ও আবদুস সালামসহ কয়েকজন যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছে পাশাপাশি তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। বালু উত্তোলনের কারণে ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হয়েছে। তীর সংরক্ষণ প্রকল্প রক্ষা না হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। কিন্তু অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া বলেন, যমুনার চর থেকে বালু নিয়ে এসে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাছে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে আনলোড করা হচ্ছে। এতে প্রকল্প বা বাঁধের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, বালু উত্তোলনে প্রশাসনের লিখিত কোনো অনুমোদন না থাকলেও স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাছে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে অনেক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকা ও বাঁধের কাছ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

***পথযাত্রায় প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দেশজুড়ে বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

দেশজুড়ে এর সব খবর >>